October 6, 2026, 5:01 pm

অপরাধ স্বীকার করলেও ফৌজদারি দায় শেষ হবে না, আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা
দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক রিকনসিলিয়েশন বা পুনর্মিলনের আগে দলটির সংঘটিত অপরাধের স্বীকৃতি ও অনুতাপ থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, অপরাধ স্বীকার ও অনুতাপের পরও রিকনসিলিয়েশনের প্রশ্ন থাকতে পারে। তবে অপরাধ স্বীকার করলেই ফৌজদারি অপরাধের দায় শেষ হয়ে যায় না; সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ না করলেও এর জন্য আওয়ামী লীগকেই প্রথমে একটি মৌলিক অবস্থান স্পষ্ট করার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশে রিকনসিলিয়েশন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মী দেশের বাইরে চলে গেলেও দেশে এখনও দলটির সমর্থক ও সক্রিয় কর্মী রয়েছেন। তারা বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তাদের সঙ্গে রিকনসিলিয়েশনের উদ্যোগ নেওয়া খারাপ ধারণা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে তাঁর মতে, রিকনসিলিয়েশনের আগে এর ভিত্তি নির্ধারণ করা জরুরি। দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কোনো গ্রুপ, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দল অপরাধ করলে সেই অপরাধের স্বীকৃতি এবং তার জন্য অনুতাপ থাকা রিকনসিলিয়েশনের মৌলিক শর্ত।
তিনি বলেন, অপরাধ স্বীকার ও অনুতাপ প্রকাশের পরও পুনর্মিলনের আলোচনা হতে পারে। কিন্তু অপরাধ স্বীকার করার অর্থ এই নয় যে ফৌজদারি দায় শেষ হয়ে গেল। অপরাধের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া চলতে হবে।
‘আওয়ামী লীগকেই আগে এগিয়ে আসতে হবে’
আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থান রিকনসিলিয়েশনের পথে বড় বাধা বলেও মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর দলটির প্রধান নেত্রীর বিভিন্ন বক্তব্যে হুমকি ও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা এসেছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে রিকনসিলিয়েশনের আলোচনা এগিয়ে নেওয়া কঠিন।
তিনি বলেন, রিকনসিলিয়েশন শুধু এক পক্ষের চাওয়ায় হবে না; আওয়ামী লীগকেও তা চাইতে হবে। যারা মধ্যস্থতা করে রিকনসিলিয়েশনের উদ্যোগ নিতে চান, তাদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলা এবং পুনর্মিলন শুরু করার মতো মৌলিক জায়গা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তিনি।